To play, press and hold the enter key. To stop, release the enter key.

একটি আদর্শবাদী দলের পতনের কারণঃ আব্বাস আলী খান 

একটি আদর্শবাদী দলের পতনের কারণ: তার থেকে বাঁচার উপায়
আব্বাস আলী খান

প্রকাশকের কথা:
বইটি ১৯৯৮ সালে প্রথম প্রকাশিত । ইসলামী সমাজ ব্যবসহা প্রতিষ্ঠা করার জন্য দরকার একটি আদর্শবাদী মজবুত সংগঠন

আদর্শবাদী দল: প্রতিষ্ঠিত সমাজ ব্যবস্থা সমূলে উৎপাটিত করে তার স্থলে সম্পূর্ণ ভিন্ন করে এক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে একটি আদর্শ বেছে নিতে হয়। এর সাথে পৃথক চিন্তাধারা ও থাকে। এ চিন্তা ও আদর্শের সাথে যারা সকল দিক থেকে একমত পোষণ করে তারা একটি দল গঠন করে । একে বলা হয় একটি আদর্শবাদী দল।
 এ দল ইসলামী হতে পারে ,ইসলামী বিরোধী ও হতে পারে
 সমাজ বিপ্লবের জন্য আদর্শের ছাচে ব্যক্তি গঠন আবশ্যক।
 দলের নেতা কর্মীদের হতে হয় নির্ভীক, সাহসী ও ধৈর্যশীল। বিশেষ করে নেতাকে হতে হয় গতিশীল, দূরদর্শী,সমসাময়িক সকল সমস্যা সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন এবং চরম সংকট মূহুর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন কারী ।
 এ দলের চরম ও পরম লক্ষ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ।
 বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী একটি আদর্শবাদী দল। এ দলের সূচনা অবিভক্ত ভারতে ১৯৪১ সালে।
দারূল ইসলাম ট্রাস্ট গঠন ও ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্যে দল গঠনের পটভূমি রচনা:
১৯৩৭ সালে আল্লামা ইকবাল হায়দারাবাদ থেকে পাঞ্জাবে হিজরত করার জন্য মাওলানা মাওদূদীকে আহ্বান করেন।
কতিপয় “উন্মাদের” প্রয়োজন: এমন উন্মাদ যে জেনে-বুঝে আগুনে ঝাঁপ দিতে প্রস্তুতি। দারূল ইসলামী ট্রাস্ট এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৪১ সালের আগষ্ট মাসে মাওলানার কথিত ৭৫ জন উন্মাদ নিয়ে জামায়াত ইসলামী প্রতিষ্ঠিত।

জামায়াতের কাজ কি ?
দুনিয়াতে জামায়াতে ইসলামীর জন্য করার যে কাজ রয়েছে, সে সম্পর্কে সীমিত কোন ধারণা পোষণ করা যাবে না বরং তার কাজের পরিধির মধ্যে রয়েছে পূর্ণ প্রসারতা সহ গোটা মানব জীবন।
ইসলামী আন্দোলন এক সর্বব্যাপী আন্দোলনের নাম।
= জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের কুরআন ,সীরাতুন্নবী ও সীরাতে সাহাবার প্রতি অনুরাগ থাকা।
= আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল করা।
= চরিত্র ও আচার আচরণে মান সংরক্ষণ করা।

আদর্শবাদী দলের পতনের কারণ-তার থেকে বাঁচার উপায়:
বিকৃতি ও পতনের কারণগুলো নিম্নরুপ:
১. দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহন না করা।
২. কুরআন হাদীস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন না করা ।
৩. সময় ও আর্থিক কুরবানীর প্রতি অবহেলা ।
৪. দলীয় মূলনীতি মেনে না চলা ।
৫. ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না করা।
৬. ভ্রাতৃত্ববোধের অভাব।
৭. নিম্নলিখিত কারণে পারষ্পরিক সম্পর্ক বিনষ্ট হয়:
ক. পারষ্পরিক হিংসা বিদ্বেষ।
খ. গীবত,পরনিন্দা ও পরচর্চা।
গ. পরশ্রীকাতরতা।
ঘ. একে অপরকে সন্দেহের চোখে দেখা ।
ঙ. কারো বিপদে আপদে তার খোঁজ-খবর না নেয়া।
চ. পরষ্পর বৈষয়িক স্বার্থে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হওয়া
ছ. অযথা কারো প্রতি কু-ধারণা পোষণ করা।

৮. নিম্নলিখিত কারণে একটি ইসলামী দল তার প্রকৃত পরিচয় হারিয়ে ফেলে এবং নিষ্ক্রিয় ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে।
ক. জনশক্তির মধ্যে নৈরাশ্য ও হতাশা সৃষ্টি হওয়া।
খ. নেতৃত্বের অভিলাষ।
গ. অর্থ-সম্পদের প্রতি লালসা ।
ঘ. জীবন মান উন্নত করার প্রবণতা।
ঙ. সহজ সরল জীবন যাপন না করা।
তার থেকে বাঁচার উপায়:
১. নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন।
২. অতিরিক্ত যিকির আযকার।
৩. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
৪. আত্মসমালোচনা।
৫. ক্রোধ দমন করা।
৬. মৌলিক বিষয়ে একমত পোষণ ।
৭. বিরোধী পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া ।
৮. নেতৃত্বে দুর্বলতা পরিহার।
৯. নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা আন্দোলনের পতন ডেকে আনে।
১০. সমস্যার ত্বরিত ও সঠিক সমাধান ।
১১. ত্যাগ ও কুরবানী।
১২. বাইতুলমালে আমানতদারীতা ও সততা।
১৩. দাওয়াত ও তাবলীগ এবং তরবিয়তি নিজাম